রাজা ইন্দ্রবর্মা ও কৌমুদীর কথোপকথন সংক্ষেপে লেখো।

অথবা,

রাজা ইন্দ্রবর্মার সঙ্গে কৌমুদীর কথােপকথনের একটি বাণীচিত্র অঙ্কন করাে। 

উত্তর- রাজা ইন্দ্রবর্মা তাঁর ভাবী বিবাহের এক বর্ণাঢ্য মহােৎসবের রূপরেখা অঙ্কন করছেন, এমন সময় কৌমুদীকে নিয়ে ক্রুদ্ধ ইন্দুশর্মার প্রবেশ ঘটল। কৌমুদীর বিরুদ্ধে বৃদ্ধ পিতা ইন্দুশর্মার অভিযােগ কৌমুদী পিত্রাজ্ঞা লঙ্খন করে আপন বাঞ্ছিত পাত্র বসন্তকে বিবাহ করতে দৃঢ়সংকল্প হয়ে তৎকালীন দেশাচারকে অবজ্ঞা করছে। সুতরাং কৌমদী দণ্ডার্হ এবং রাজা কৌমুদীকে সমুচিত দণ্ডে দণ্ডিত করুন—এটিই রাজার কাছে ইন্দুশর্মার প্রার্থনা।

  রাজা কৌমুদীকে বােঝাবার চেষ্টা করলেন যে, দেশাচার লঙ্খন করা তার উচিত নয়। তা ছাড়া পিতার নির্বাচিত পাত্র মকরন্দ সুদর্শন যুবক। সে সর্বতােভাবে কৌমুদীর উপযুক্ত পাত্র। উত্তরে কৌমুদী রাজাকে জানাল যে বসন্তও সুদর্শন। বিশেষ করে বসন্ত কৌমুদীর মনােরাজ্যের অধীশ্বর। সুতরাং কৌমুদী বসন্তকে ছাড়া অন্য কাকেও বিবাহ করতে পারে না। রাজা পুনরায় কৌমুদীকে জানালেন যে, যেহেতু তার পিতা মকরন্দের প্রতি পক্ষপাতী, সেই হেতু মকরন্দকেই কৌমুদীর বিবাহ করা উচিত। বার বার বুঝিয়েও যখন রাজা কৌমুদীর সংকল্পের পরিবর্তন ঘটাতে পারলেন না, তখন রাজা জানালেন যে কৌমুদীর দেহখানি সুঠাম, বয়সও যৌবনপ্রাপ্ত। যদি কৌমুদী পিতার নির্বাচিত পাত্রকে বিবাহ না করে তাহলে কৌমুদীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে অথবা চিরকাল কৌমার্যব্রত পালন করতে হবে। সুতরাং কৌমুদীর পুনর্বিবেচনা করে পিতার আজ্ঞা পালন করা উচিত। কারণ কৌমুদীর সিদ্ধান্ত কল্যাণকর নয়, নয় সেটি সুখাবহ। 

  কিন্তু কৌমুদী আপন সিদ্ধান্তে অনড়। সে রাজাকে স্পষ্টভাষায় জানাল, “মহারাজ, বসন্তং বিহায় নান্যং পশ্যেয়ম্। তদর্থং জীবিতমপি ত্যজেয়ম্। যাবদায়ুঃ পরিণয়ং বিনাপি বসেয়ম্।” ইত্যবসরে শােনা গেল সঙ্গীতশালায় মৃদঙ্গধ্বনি। বিদায় বেলায় রাজার কৌমুদীর প্রতি শেষ উক্তি—“কৌমুদি, সম্যগালােচ্য তাতমেবানসুর নোচেদ্ভেজ মলণম্।।”